সর্বশেষ

Wednesday, 7 June 2023

জামায়াতকে জনবিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে সরকার নিজেই গোটা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে: ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ

জামায়াতকে জনবিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে সরকার নিজেই গোটা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে: ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ

 

অনলাইন ডেস্ক: আগামী ১০ জুন রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ বাস্তবায়ন উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের রমনা থানার উদ্যোগে আজ ৭ জুন বুধবার স্থানীয় একটি মিলনায়তনে ওয়ার্ড ও ইউনিট দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য ও রমনা থানা আমীর আবু জাওয়াদের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে রমনা থানার সকল ওয়ার্ড ও ইউনিট দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিককে সংগঠন ও সভা সমাবেশ করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। দেশের সংবিধান মোতাবেক আমরা সকল কর্মসূচী পালনের অধিকার রাখি। অথচ সরকার জামায়াতে ইসলামীকে সভা সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। তারা আমাদেরকে জনবিচ্ছিন্ন করতে সকল প্রকার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। সারাদেশে জামায়াতের অফিস গুলোকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে জোরপুর্বক বন্ধ করে রেখেছে। অফিসের কর্মকর্তা- কর্মচারী এমনকি পার্শ্ববর্তী দোকান মালিকদেরও গ্রেফতার করেছে। এতকিছুর পরেও জামায়াতে ইসলামী এদেশের জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। অপরদিকে দেশে জনগণের ন্যায্য অধিকার হরণ, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধগতি, ভয়াবহ বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ফলে সরকার আজ জনগণের তোপের মুখে পড়েছে। প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ফলে বহিঃবিশ্বেও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে বিভিন্ন স্যাংসনের মুখে পড়েছে। এভাবে জামায়াতকে জনবিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে ক্ষমাতাসীন আওয়ামী সরকার আজ নিজেই গোটা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 

তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিরোধ, আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের মুক্তি, কেয়ারটেকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে গত ৫ জুন আমরা সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি দিয়ে সহযোগিতা চেয়ে ডিএমপির কাছে আবেদন করেছিলাম অথচ প্রশাসন কর্ম দিবসের (ওয়ার্কিং ডে) ঠুনকো অযুহাতে আমাদের আবেদনকে নাকচ করে দেয়। আমরা মাত্র ২ ঘন্টার জন্য সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম অথচ আওয়ামী লীগ বছরের পর বছর ধরে গুলিস্তানে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তা দখল করে বন্ধ করে দিয়েছে, ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কটিও ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে যুদ্ধাবস্থার পরিবেশের সৃষ্টি করা হয়েছিলো। রাষ্ট্রের নাগরিকদের বিরুদ্ধে সরকারের এই যুদ্ধ প্রস্তুতি দেখে দেশের জনগণ হতবাক হয়ে যায়। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ফলে ৫ জুনের পরিবর্তে আগামী ১০ জুন বন্ধের দিনে নতুনভাবে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কথা গুলো জাতির সামনে তুলে ধরতে চাই। আমরা প্রত্যাশা করি ডিএমপি আমাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই আমাদেরকে তা নিশ্চিত করবে। যেন সমাবেশের সকল প্রস্তুতি আমরা ভালো মতো সম্পন্ন করতে পারি। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিশ্চয়তা দিতে চাই, জামায়াতের সমাবেশ বাস্তবায়নে আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রত্যেক নেতাকর্মী শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে ইনশাআল্লাহ। 

ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামী যেন কোন আন্দোলন করতে না পারে, সেই ভয়ে ভীত হয়ে এই অবৈধ সরকার জামায়াত কোন সভা সমাবেশ করতে দিচ্ছেনা। জনগণের কণ্ঠকে রুদ্ধ করতে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা সরকারকে বলতে চাই, জনগণের উপরে জুলুম ও শোষন বন্ধ করে অবিলম্বে আমীরে জামায়াত সহ জাতীয় নেতৃবৃন্দকে মুক্তি প্রদান করুন। সেই সাথে আগামী ১০ জুনের সমাবেশ সফল করতে সহযোগিতা করুন। দেশপ্রেমিক সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী তার বক্তব্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে চাই। এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Sunday, 4 June 2023

মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা একটি অন্যতম ইবাদত

মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা একটি অন্যতম ইবাদত

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান


মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা একটি অন্যতম ইবাদত। দেশের মানুষ আজ সব ধরনের অধিকার হতে বঞ্চিত। তাই মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, অধিকার হারা মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামী সংগ্রাম করে যাচ্ছে। সেই অধিকার আদায়ের আন্দোলনে জামায়াতের কর্মীদেরকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

৩ জুন শনিবার জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলার উদ্যোগে ভার্চুয়ালি আয়োজিত এবং জেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজাউদ্দীন জোয়ার্দারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জেলা কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান উপরোক্ত কথা বলেন।

বিশেষ অতিথি জনাব মোবারক হোসাইন বলেন, ১৯৭৯ সালের মে মাসে মাত্র এক হাজার কর্মী নিয়ে এক সম্মেলনের মাধ্যমে যে সংগঠনের যাত্রা শুরু, তা আজ অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। তবে আমাদের আরো অনেক পথ পারি দিতে হবে। জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে আমাদের সেই পথ মসৃণ করতে হবে এবং কাক্সিক্ষত সফলতা অর্জন করতে হবে।

বিশেষ অতিথি খন্দকার একেএম আলী মহসিন বলেন, আমরা যদি সঠিকভাবে কাজ করি, তাহলে এই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাংলার জমিনে দ্বীন প্রতিষ্ঠা লাভ করবে, ইনশাআল্লাহ।

সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হোসাইন ও শাহজাহান আলী মোল্লা, জেলা নায়েবে আমীর আবদুল গফুর, সহকারী সেক্রেটারি সোহরাব উদ্দিন ও খাইরুল ইসলাম রবিন এবং উপজেলা আমীরগণ।

সমাবেশের অনুমতিপত্র আমাদের কাছে পৌঁছে দিন : ডা. মোহাম্মদ তাহের

সমাবেশের অনুমতিপত্র আমাদের কাছে পৌঁছে দিন : ডা. মোহাম্মদ তাহের

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাবেশের অনুমতিপত্র পৌঁছে দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা বিশৃঙ্খলা চাই না। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। সমাবেশ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব।’

শনিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির যথাক্রমে আব্দুস সবুর ফকির ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।

ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘বাংলাদেশে রাজনীতি করার জন্য নিবন্ধন জরুরি নয়, নির্বাচনের জন্য রেজিষ্ট্রেশন নিতে হয়। রাজনৈতিক সভা সমাবেশ, মিছিল করার জন্য নিবন্ধন কিংবা অনুমতির প্রয়োজন নেই। তিনটি মৌলিক দাবিতে আগামী ৫ জুন রাজধানীতে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এ সমাবেশ বাস্তবায়ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সমাবেশে বাধা দেয়া মানে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা দেয়া, গণতন্ত্রের পথে বাধা দেয়া। ৫ জুনের সমাবেশের অনুমতি জনগণ দিয়েছে। তাই আপনারা বাড়াবাড়ি করবেন না।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট তার শরিকরাও প্রত্যাখ্যান করেছে। এ বাজেট একটা ভারসাম্যহীন, বায়বীয়, ঋণ-নির্ভর বাজেট। এতে জনগনের কোনো কল্যাণ নেই। মধ্য ও নিম্নবিত্তের মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। আমরা এ বাজেট প্রত্যাখ্যান করছি।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলছেন, তার অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। তারা বারবারই একই কথা বলছেন। তারা আসলে সত্য বলছেন না বলেই এই কথা বারবার বলছেন। তারা উন্নত দেশের কথা বলছেন। আমি তাদের বলব, উন্নত দেশের মধ্যে এমন তিনটি দেশের নাম বলুন, যে দেশে দিনের ভোট আগের রাতেই হয়েছে। বর্তমান সরকার যেকোনো উপায়ে নির্বাচন করতে চায়। এখন ২০১৪ বা ২০১৮ সাল নয় এবং ওই পরিবেশও আর নেই।’

জামায়াত নেতা বলেন, ‘বর্তমান সঙ্কটের উত্তম সমাধান হচ্ছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করা। কেবলমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেই বিরোধী দলের থাকতে পারবেন। আওয়ামী লীগ যদি আবারো ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে চায়, তাহলে এ সরকার টিকবে না। বরং অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে। তাই অবিলম্বে নিদর্লীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। সংগ্রাম করে, কঠোর কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে নয়, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। আর যদি তা না হয়, আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হবে। পরিস্থিতি এখন আপনাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন ভিসা নীতি নিয়ে আপনারা তো আগে থেকেই জানতেন। তখন জনগনকে জানালেন না কেন? ঘোষণা হওয়ার পর বললেন, এটা বিরোধী দলের জন্য। এখন কি উল্টা হয়ে গেল? আমরা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তাক্ষেপ পছন্দ করি না। ভিসা নীতি গোটা জাতিকে অপমানিত করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বৈধ সংগঠন। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন। কারো মুখের কথায়, শব্দ চয়নে জামায়াতের অবস্থান পরিবর্তন হবে না। বাংলাদেশে রাজনীতি করার জন্য নিবন্ধন জরুরি নয়। নির্বাচনের জন্য রেজিষ্ট্রেশন নিতে হয়। জামায়াতে ইসলামী বৈধ, রেজিস্ট্রার্ড রাজনৈতিক সংগঠন। জামায়াতের নিবন্ধনের বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ষড়যন্ত্রের কারণে উচ্চ আদালতে নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। যা এখন বিচারাধীন রয়েছে। বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামী সব সময়ই শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করে আসছে। প্রয়োজনে সেখানে স্থায়ী মঞ্চ গড়ে তোলা হবে। আমরা বিশৃঙ্খলা চাই না। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করি। সমাবেশ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব।’

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘আমরা গত ২৮ মে ঢাকায় মিছিল সমাবেশে সহযোগিতা চেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) আবেদন করেছি। এরই কপি আমরা স্ব-শরীরে আইনজীবীদের মাধ্যমেও পুলিশ কার্যালয়ে জমা দিয়ে এসেছি। দেশের সুপ্রিম কোর্টের সম্মানিত আইনজীবীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ আবেদন পত্রটি নিয়ে গেলে তাদের সাথে যে ন্যাক্কারজনক আচরণ করা হয়েছে, তা পুরো জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। আমরা রাজধানীতে শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশ করতে চাই। সরকার তাতে সহযোগিতা করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’

তিনি বাজেটের সমালোচনা করে বলেন, ‘যে বাজেট দেশে পেশ করা হয়েছে তা গরীব মারার বাজেট। দেশের উন্নয়নের নামে লুটপাটের আরো সুযোগ তৈরি করতেই ঋণ-নির্ভর এ বাজেট তৈরি করা হয়েছে। এই বাজেটে যেসব খাতে কর নেই ওইসব খাতেও কর আরোপ করার কথা বলা হয়েছে। কর দেয়ার জন্য উপযুক্ত নয় যারা তাদেরও কর দেয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রকৃত অর্থে এই বাজেটের মধ্য দিয়ে সরকারের সেচ্ছাচারিতা প্রকাশ পেয়েছে। আজ দেশের উন্নয়নের চেয়ে বড় বেশি প্রয়োজন এই সরকারের পতন নিশ্চিত করা।’

তিনি আগামী ৫ জুন জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল সফল করতে দলে দলে অংশগ্রহণ করতে ঢাকাবাসীসহ জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে দেলওয়ার হোসাইন, কামাল হোসাইন ও ড. আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন, মাওলানা আবু সাদিক, ইঞ্জিনিয়ার শেখ আল আমিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সালাম, অধ্যাপক নুরুন্নবী, আবু জয়নব, সিরাজুল ইসলাম, আবু ওয়াফি, মহানগরীর মজলিসে শূরা সদস্য আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশে রাজনীতির জন্য নিবন্ধন জরুরি নয়: জামায়াত

বাংলাদেশে রাজনীতির জন্য নিবন্ধন জরুরি নয়: জামায়াত

 

ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, বাংলাদেশে রাজনীতির জন্য নিবন্ধন জরুরি নয়। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, মিছিল করার জন্য নিবন্ধন কিংবা অনুমতির প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, তিনটি মৌলিক দাবিতে আগামী ৫ জুন রাজধানীতে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এই সমাবেশ বাস্তবায়ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই সমাবেশে বাধা দেওয়া মানে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতন্ত্রের পথে বাধা দেওয়া।

আগামী সোমবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে আজ শনিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এসব কথা বলেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাবেশের অনুমতিপত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশঙ্খলা চাই না। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি। সমাবেশ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব। ৫ জুনের সমাবেশের অনুমতি জনগণ দিয়েছে। তাই আপনারা বাড়াবাড়ি করবেন না।’

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন- কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির যথাক্রমে আব্দুস সবুর ফকির ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।
ওই সময় উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে দেলওয়ার হোসাইন, কামাল হোসাইন ও ড. আব্দুল মান্নান, দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন, মাওলানা আবু সাদিক, ইঞ্জিনিয়ার শেখ আল আমিন, আব্দুস সালাম, অধ্যাপক নুরুন্নবী, আবু জয়নব, সিরাজুল ইসলাম, আবু ওয়াফি, মহানগরীর মজলিসে শূরা সদস্য আশরাফুল আলম ইমনসহ অনেকে।

Friday, 14 April 2023

শহীদ প্রোফাইল-শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী

শহীদ প্রোফাইল-শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী

 



শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। ২০১০ সালের ২৯ জুন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বানোয়াট-ঠুনকো অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। ৯টি হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হয় মাওলানা নিজামীকে। এসব মামলায় তাকে ২৪ দিন রিমান্ডে নেয়া হয়। একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান ও শীর্ষ স্থানীয় আলেমকে রিমান্ডে নিয়ে মানসিক নির্যাতনের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে করেছে কলঙ্কিত।

অন্যান্য মামলায় জামিন পাওয়ার পরও সরকার হীন উদ্দেশ্যে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১০ সালের ২ আগস্ট তাঁকে গ্রেফতার দেখায়।

কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার : রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সরকার জামায়াত নেতৃত্বকে সাজা দেয়ার আয়োজন সম্পন্ন করে। ১৯৭৩ সালের আইনে সংশোধন এনে দলীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে মিথ্যা অভিযোগ ও সাজানো সাক্ষী দিয়ে কথিত মানবতাবিরোধী বিচারের রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই বিচারের জন্য প্রণীত আইন ও বিধিমালা নিয়ে শুরু থেকেই দেশে-বিদেশে বিশেষজ্ঞগণ গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিফেন জে র্যাগপ, আইনজীবীদের বিশ্বের সর্ববৃহৎ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইট্স ওয়াচসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ও সংস্থা এ নিয়ে আইন সংশোধনের জন্য নানা সুপারিশও দিয়েছে। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাতই করেনি। সরকার তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চিরতরে শেষ করে দেয়ার জন্য জাতীয় নেতৃবৃন্দকে একের পর এক হত্যা করেই চলছে। ইতোমধ্যে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল স্বীকার করেছেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেই বিচার হচ্ছে।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হত্যার জন্যই আইন : যুদ্ধাপরাধের জন্য প্রণীত আইনটি নিজেই ন্যায়বিচারের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। এটি মূলত এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে যাতে রাষ্ট্রপক্ষ সবক্ষেত্রেই আইনি পন্থায় বেআইনি সুবিধা লাভ করতে পারে। ট্রাইব্যুনাল গঠন থেকে শুরু করে তদন্ত, বিচারক নিয়োগসহ সাক্ষ্যগ্রহণ এমনকি ফাঁসি কার্যকর করা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এ বিশেষ সুবিধার প্রতিফলন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ৬ নং ধারা অনুযায়ী সরকার চাইলে এক বা একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারবে। যেখানে সরকার নিজেই বাদি সেখানে ট্রাইব্যুনাল গঠন ও বিচারক নিয়োগের এখতিয়ার সরকারের হাতে থাকায় নিরপেক্ষ ট্রাইব্যুনাল গঠন বা ন্যায়বিচার কোনটি-ই সম্ভব না। পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল চাইলে দ্রুত বিচারের স্বার্থে কোনো সাক্ষ্য ছাড়াই বিচারকার্য সম্পন্ন করতে পারবে আবার চাইলে রায় দেয়ার জন্য একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যই পর্যাপ্ত মনে করতে পারবে।

শুধু তাই নয়, দেশীয় আদালতে বিচার হলেও সাক্ষ্য আইন ও ফৌজদারি কার্যবিধির মত মৌলিক আইনগুলোকে বাতিল করে পত্রিকায় ছাপানো খবর বা প্রবন্ধ, সাময়িকী, সিনেমা, টেপ রেকর্ডারসহ সব ধরনের অনির্ভরযোগ্য প্রমাণপত্র গ্রহণের এখতিয়ার আদালতের রয়েছে, যা ন্যায়বিচারের পথকে বন্ধ করে দিয়েছে। যখন একজন বিচারকের স্কাইপ কেলেঙ্কারি জনসাধারণের নিকট প্রকাশ পায় তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটি মূলত বিচারের নামে প্রহসনের নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়।

২১ নং ধারায় বলা হয়েছে যে, শুধু আসামিপক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে। আইনটি এরকম ছিল কারণ তারা নিশ্চিত ছিল যে, আদালত অভিযুক্তদের ফাঁসি দেবে। কিন্তু পক্ষপাতদুষ্ট বিচারক নিয়োগ দেয়ার পরও যখন শহীদ আবদুল কাদের মোল্লাকে শুধু যাবৎজীবন কারাদন্ড দেয়া হয় তখন বিচারিক হত্যা নিশ্চিত করার জন্য ধারাটি সংশোধন করে রাষ্ট্রপক্ষকেও আপিল করার অধিকার দিয়ে সংশোধনীর ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা প্রদান করা হয়, যা ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। তখন বুঝার আর বাকি থাকে না যে, এটি আসলেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আইনের মাধ্যমে একটি বিচারিক হত্যার আয়োজন ছাড়া আর কিছুই নয় এবং এর শিকার মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। এ দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ সকল ইসলামী নেতৃবৃন্দ তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।

আমীরে জামায়াত মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি-

১. আল বদর কমান্ডার হিসেবে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায় চাপানো হয়েছে। কিন্তু ১৯৭১ সালের যত পত্রিকা এবং গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট আছে, তার কোথাও আল বদর বাহিনীর সাথে মাওলানা নিজামীর দূরতম কোনো সম্পর্ক আছে বলে প্রমাণ নেই। এসব পত্রিকা ও গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট সরকার পক্ষই আদালতে দাখিল করেছিল।

২. সাক্ষী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী ও সালমা হক বলেছেন, ১৯৭১ সালের পত্রিকায় দেখেছেন মাওলানা নিজামী আল বদর বাহিনীর প্রধান, কিন্তু সরকারপক্ষের দাখিল করা ১৯৭১ সালের কোনো পত্রিকায়ই এ ধরনের খবর নেই। এ ব্যাপারে আদালতের যুক্তি, পত্রিকায় না থাকলেও তারা ২ জন যেহেতু সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি, ধরে নিতে হবে তারা পত্রিকায় দেখেছেন।

৩. বলা হয়েছে ছাত্রসংঘ মানেই আল বদর। যেহেতু মাওলানা নিজামী ছাত্রসংঘের প্রধান ছিলেন, সেহেতু তিনি পদাধিকার বলে আল বদর বাহিনীরও প্রধান। মাওলানা নিজামী ছাত্রসংঘের প্রধান ছিলেন ১৯৭১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। এর পর থেকে তিনি ছাত্রসংঘে ছিলেন না। বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘটনা সেপ্টেম্বরের পরে হয়েছে। সেই হত্যাকান্ডের দায় দায়িত্ব তার ওপর চাপানো হয় কিভাবে?

৪. এ ব্যাপারে আদালত বলেছেন, মাওলানা নিজামী ৫ বছর ছাত্রসংঘের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাই তিনি ছাত্রসংঘ থেকে অবসর নিলেও একদিনে তাঁর এই সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় না। এর চেয়ে খোঁড়া অজুহাত আর কী হতে পারে?

৫. বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড নিয়ে দুইজন মহিলা সাক্ষী বলেছেন, তাদের স্বামীকে যারা ধরে নিয়ে যায়, তারা বলেছে, হাইকমান্ড নিজামীর নির্দেশে তারা ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এ দু’টি ঘটনা নিয়ে মামলা হয়। বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড নিয়ে এ রকম আরো ৪০টিও বেশি মামলা হয়েছিল। এসব মামলার কোথাও মাওলানা নিজামীর নাম তখন আসেনি। ওই দুই মহিলা সাক্ষী তাদের স্বামীদের হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অসংখ্যবার সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। একজন সাক্ষী তার স্বামীর হত্যাকান্ড নিয়ে বই লিখেছেন। আরেকজন শাহরিয়ার কবিরের মতো চরম জামায়াতবিদ্বেষী মানুষের বইয়ে তার স্বামীর হত্যাকান্ড নিয়ে বিশদ বর্ণনা দেন। এ সবের কোথাও তারা এ ঘটনার সাথে মাওলানা নিজামীর দূরতম কোনো সম্পর্ক ছিল, তা বলেনি। এমনকি এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছেও তারা মাওলানা নিজামীর নাম বলেনি। শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারা আদালতে এসে প্রথমবারের মতো মাওলানা নিজামীর নাম বলে।

এ ব্যাপারে আদালত বলেন, হয়তো এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছে, অথবা ভুলবশত বলার পরও লিখেনি। যেখানে মাওলানা নিজামী একমাত্র আসামি, সেখানে তার ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তার জিজ্ঞেস করতে ভুলে যাওয়া বা লিখতে ভুলে যাওয়ার কথা বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে?
পাবনার ঘটনা

৬. ১৯৭১ সালে মাওলানা নিজামী পরিচিত ছাত্রনেতা ছিলেন, তিনি সে সময় বাংলাদেশের যে স্থানেই গিয়েছেন, পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট এসেছে। এমনকি সরকারের গোপন গোয়েন্দা রিপোর্ট, যা সরকার আদালতে দাখিল করেছে, সেখানেও বর্ণিত রয়েছে। ১৯৭১ সালে তিনি পাবনা গিয়েছেন, এ মর্মে কোনো রিপোর্ট পত্রিকায়ও আসেনি। গোয়েন্দা রিপোর্টেও ছিল না। এমনকি কট্টর জামায়াতবিদ্বেষী ড. এম এ হাসান তার লিখিত বই ‘যুদ্ধাপরাধ গণহত্যা ও বিচারের অন্বেষণ’ চার্জে বর্ণিত পাবনার ঘটনাসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা দিলেও কোথাও মাওলানা নিজামীর নাম উল্লেখ করেননি।

সরকার ১৯৭২ সালে পাবনা জেলার রাজাকার, আল বদর ও স্বাধীনতাবিরোধীদের যে তালিকা তৈরি করে, সেখানে কোথাও মাওলানা নিজামীর নাম নেই। এ ব্যাপারেও আদালত বলেন যে, ১৯৭২ সালে প্রস্তুতকৃত রাজাকার, আল বদরের প্রাথমিক তালিকা ছিল, সেখানে সমস্ত রাজাকার, আল বদরের নাম থাকা জরুরি নয়। এটা কি বাস্তবসম্মত যুক্তি হতে পারে? কেননা, এই মামলায় মাওলানা নিজামীকে রাজাকার আল বদরদের নেতা হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। এমনকি দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানি আর্মি তার কথায় অপরাধ সংঘটিত করতো।

এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় যে, সরকার পক্ষের দাবি সত্য হলে, এমনকি প্রাথমিক তালিকায় তার নাম থাকবে না।
সর্বোপরি ১৯৮৬ সালের আগে, প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনপ্রিয় ইসলামী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন, তার আগে কোথাও কোন পত্রিকা/বই, মামলার নথিতে আল বদর প্রধান বা সদস্য অথবা বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অথবা পাবনা বা ঢাকায় ১৯৭১ সালে সংঘটিত কোনো অপরাধের সাথে জড়িত বলে কোথাও মাওলানা নিজামীর নাম আসেনি।

প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশে করে যা বললেন : 

মাওলানা নিজামীর আপিল শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে বেশ কিছু প্রশ্ন করেন। এতে তিনি জিজ্ঞেস করেন, নিজামীর সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে আপনাদের কাছে তো কোনো প্রমাণ নেই। এতে তাঁকে ফাঁসি দেয়া যাবে কি? প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জানতে চান, “এটা কি কারেক্ট যে ১৯৮৬ সালের আগে নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে নাকি কিছুই নাই? আমাদেরকে একটা কিছু দেখান যেটা ১৯৮৬ সালের আগে প্রকাশিত।” অ্যাটর্নি জেনারেল কোনো কিছু দেখাতে ব্যর্থ হন।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং হত্যাও সংঘটিত হয়েছে এ বিষয়গুলো তো নিজামীর আইনজীবীরা স্বীকার করেছেন। কিন্তু নিজামী সরাসরি হত্যা, ধর্ষণে জড়িত ছিলেন এমন কোনো প্রমাণ আপনাদের কাছে আছে? প্রধান বিচারপতি আবার প্রশ্ন করেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকলে তাঁকে ফাঁসি দেয়া যাবে কি? (সূত্র : শীর্ষ নিউজ, এনটিভি অনলাইন ০৭ ডিসেম্বর ২০১৫)

রায়ে মাওলানা নিজামীর আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া
খন্দকার মাহবুব হোসেন

মৌলিক অধিকারবিহীন, অসাংবিধানিক ও একটি কালো আইনে বিশেষ উদ্দেশ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের এবং নিজামীর বিচার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। ৫ মে রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনটি করা হয়েছিল ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনার বিচারের জন্য। কিন্তু মূল হোতাদের বাদ দিয়ে তাদের সহযোগীদের বিচার করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর মূল্যায়ন করবে। এখনো বলছি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন যে এই আইনে বিচার সঠিক হয়েছিল কি না। তিনি বলেন, এই আইনে এমন কিছু বিধান আছে যা আমাদের সাক্ষ্য আইন ও ফৌজদারি কার্যবিধি কার্যকর না। তিনি বলেন, এখানে সাক্ষী দেয়া হয় শোনা কথার ওপর ভিত্তি করে। তাই এই শিখানো সাক্ষীর ভিত্তিতে যখন যার বিরুদ্ধে খুশি মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়।

শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর প্রধান আইনজীবী
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক

মাওলানা নিজামী রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের শিকার তাঁর রক্ত বৃথা যেতে পারে না। আজ থেকে ৬ বছর আগে ২৯ জুন ২০১০ সালে ধর্ম অবমাননার মামলায় মাওলানা নিজামীকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়, এটা বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন। মাওলানা নিজামীকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। বিশ্বের ইতিহাসে অনেক যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়েছে নুরেমবার্গ থেকে সিওরালিয়ন কিন্তু মাওলানা নিজামী ৪০ বছর দেশে থাকার পরও কেউ কোনো দিন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনেননি। সরকার আইন ভঙ্গ করেছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।
(সূত্র: মাওলানা নিজামীর শাহাদাতের পর লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাজায় দেয়া বক্তব্য।)

ছোট্ট অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মাওলানা নিজামী : মাওলানা নিজামীর মেজো ছেলে ডা: নাঈম খালেদ শেষ সাক্ষাতের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আমরা কনডেম সেলে শেষ সাক্ষাতের দিন আব্বুর কক্ষের সামনে যাই। সেলটির নাম রজনীগন্ধা। সেলের সর্বশেষ কক্ষ ৮ নম্বর প্রকোষ্ঠে আব্বু ছিলেন। রুমটি জানালাবিহীন, দৈর্ঘ্যে প্রস্থে আনুমানিক ৮/৮ ফিট, একদিকে লোহার গরাদ দিয়ে ঘেরা আর তার সামনে ছোট একটি আধো অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ।

রুমের ভেতরে সবুজ একটি জায়নামাজে বসে আব্বু আমাদের উল্টোদিকে কেবলামুখী হয়ে দোয়া করছিলেন। শান্ত ও স্পষ্ট উচ্চারণে আরবিতে দোয়া করছিলেন, খুব উচ্চস্বরেও না আবার খুব নিচুস্বরেও না। প্রতিটি বাক্যের মাঝে স্বভাবসুলভ একটু বিরতি। ঠিক যেমনটা আমরা আমাদের ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি। পাশে হালকা বাদামি রঙের একটি বাচ্চা বিড়াল বসা। যেন উনার সাথে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানাচ্ছে। মুয়াজ (উনার তিন বছর বয়সী নাতী) সিঁড়ি বেয়ে উঠে লোহার গরাদ ধরে বলল, “দাদু দরজা খোলো আমরা আসছি”। আব্বু শান্তভাবে মোনাজাত শেষ করে উঠে দাঁড়ালেন। আমাদের দেখে লোহার গরাদের কাছে এসে বললেন, “তোমরা আসছো? এটাই তাহলে শেষ দেখা?”

উনি সিকের ওপার থেকেই সবার সাথে হাত মেলালেন। উনার পরনে ছিল সাদা সুতি পাঞ্জাবি আর লুঙ্গি। গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরমে আর জানালাবিহীন রুমের কারণে উনার পাঞ্জাবিটি ঘামে ভেজা, কিন্তু মুখটা প্রশান্ত; কষ্ট বা উদ্বেগের লেশমাত্র নেই। দেখে কে বলবে একটু পরে উনার ফাঁসি দেবে এই জালিম সরকার।

এসময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আব্বু আম্মুকে বলেন আজ থেকে তুমি ওদের বাবা ও মা দুটোই। তোমার মাঝে যেন ওরা আমাকে দেখতে পায়। আর তুমিও আমাদের সন্তানদের মাঝে আমাকে খুঁজে পাবে।

আব্বু আমাদেরকে বলেন, “তোমরা ভাইবোনেরা মিলেমিশে থাকবে, আল্লাহ ও রাসূলের (সা) পথে চলবে, মায়ের খেদমত করবে। তোমরা তোমাদের মায়ের মাঝেই আমাকে খুঁজে পাবে। আর তোমাদের আম্মা যেন তোমাদের মাঝে আমাকে খুঁজে পায়। তোমরা তোমাদের আব্বুকে যেভাবে দেখেছো সেটাই মানুষকে বলবে, আমার ব্যাপারে বাড়তি কথা বলা থেকে বিরত থাকবে। আমার বয়স এখন ৭৫ বছর, আমার সহকর্মীদের অনেকেই আমার মত লম্বা হায়াত লাভ করে নাই, তোমরা তোমাদের বাবাকে দীর্ঘদিন পেয়েছ, হায়াত মাউত আল্লাহর হাতে, আমার মৃত্যু যদি আল্লাহ আজকে রাতেই লিখে রেখে থাকেন তাহলে বাসায় থাকলেও মৃত্যু হতো। সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখবে আর শুকরিয়া আদায় করবে।”

এরপর আব্বু বিশেষ করে যারা তার জন্য, অন্যান্য নেতৃবৃন্দের জন্য সর্বোপরি ইসলামী আন্দোলনের জন্য কষ্ট করছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ ও সালাম জানাতে বলেন। সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন যেন আল্লাহ তায়ালা তার শাহাদাত কবুল করেন।

তখন আম্মু বলেন, ‘আল্লাহ তোমাকে দুনিয়াতেও সম্মানিত করেছেন, আখেরাতেও সম্মানিত করবেন ইনশাআল্লাহ’। আব্বু তখন বলেন, আমি সামান্য অজপাড়াগাঁয়ের ছেলে। আল্লাহর রহমতে আমার জন্য গোটা দুনিয়া ও বড়-বড় আলেমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, দোয়া করেছেন। আমার মুক্তির ব্যাপারে ওআইসিতে আলোচনা হবে দেখে শেখ হাসিনা ওআইসি সম্মেলনে যায়নি, এগুলোতো পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার।

আমরা আব্বুকে বলি, আমাদের জন্য কাল কেয়ামতের দিনে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন, যেন আমরা জান্নাতে যেতে পারি। আব্বু বলেন, “তোমরা জান্নাতে যাওয়ার মতো আমল কর, তাহলে ইনশাআল্লাহ জান্নাতে যেতে পারবে।”

শাহাদাতের পূর্বে মাওলানা নিজামীর দীর্ঘ মোনাজাত : এরপর আব্বু আমাদের অনুরোধে আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে দোয়া করেন। প্রায় ঘন্টাখানেক এই মোনাজাতপর্ব স্থায়ী হয়। আল্লাহর প্রশংসা ও নবী করীম (সাঃ) এর প্রতি দুরুদ পাঠ করার পর প্রথমে প্রায় ২০ মিনিট, রাসূল (সা)-এর শিখিয়ে দেয়া মাসনুন দোয়াগুলো, যেগুলো আব্বুকে সারা জীবন করতে দেখেছি সেগুলো পাঠ করেন।

অতঃপর তিনি বলেন, “হে আল্লাহ আমি তোমার এক নগণ্য গুনাহগার বান্দাহ, তুমি আমাকে যতটুকু তোমার দ্বীনের খেদমত করার তাওফিক দিয়েছো তা মেহেরবানি করে কবুল করে নাও। আমাকে ইসলাম ও ঈমানের ওপর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিকে থাকার তাওফিক দাও আর শাহাদাতের মৃত্যু দান কর। হে আল্লাহ তুমি আমাকে আর আমার বংশধরদেরকে নামায কায়েমকারী বানাও আর আমাকে আমার পিতা-মাতাকে আর সকল মুমিনদেরকে কাল কিয়ামতের দিনে ক্ষমা কর।

হে আল্লাহ আমাদেরকে পরিপূর্ণ ঈমান দান কর, তোমার ওপর সত্যিকারের ভরসা করার তাওফিক দান কর। আমাদের জিহবাকে তোমার সার্বক্ষণিক জিকিরকারী বানাও। আমরা তোমার কাছে, তোমার ভয়ে ভীত অন্তর, উপকারী জ্ঞান, হালাল প্রশস্ত রিজিক, সুস্থ বুদ্ধি ও দ্বীনের সঠিক বুঝ ভিক্ষা চাচ্ছি। হে আল্লাহ আমাদেরকে মৃত্যুর পূর্বে তওবা করার তাওফিক দাও, মৃত্যুর সময় আরাম দান কর, মৃত্যুর পরে তোমার ক্ষমা লাভ করার তাওফিক দাও ও দোজখের আগুন থেকে রক্ষা কর।

হে আল্লাহ তোমার হালালকৃত জিনিসের মাধ্যমে হারাম থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দাও, তোমার আনুগত্যের মাধ্যমে তোমার নাফরমানি থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দাও আর আমাদেরকে তুমি ছাড়া কারও মুখাপেক্ষী করো না। আল্লাহ তোমার নুর দিয়ে আমাদেরকে হেদায়াত দান কর। আমাদের সকল গুনাহ খাতা তোমার সামনে পরিষ্কার, তোমার কাছেই ক্ষমা চাচ্ছি ও তোমার নিকট প্রত্যাবর্তন করছি। ইয়া হান্নান ইয়া মান্নান।”

তিনি আরো দোয়া করেন, “হে আল্লাহ তুমি এই দেশকে তোমার দ্বীনের জন্য কবুল করে নাও, এই দেশের জন্য শান্তির ফয়সালা করে দাও। এ দেশকে গুম, খুন, রাহাজানি ও আধিপত্যবাদীদের হাত থেকে রক্ষা কর”। তিনি দেশ ও দেশবাসীর সুখ সমৃদ্ধির জন্যও দোয়া করেন। এই আবেগঘন মোনাজাতের সময় আমার মেয়ে কয়েকজন জেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চোখে পানি দেখেছে বলে পরে আমাকে জানায়।

ব্যক্তিজীবনে একজন চিকিৎসক হওয়ায় আমাকে এর আগে বহু মৃত্যু দেখতে হয়েছে। বহু লোককে দেখেছি রোগে শোকে মৃত্যুর প্রহর গুনতে। আমি দেখেছি তাদের চেহারায় মৃত্যুর ছায়া, কিংবা একটি মুহূর্ত বেশি বেঁচে থাকার আকুতি। কিন্তু আব্বুকে শেষ সাক্ষাতে দেখতে গিয়ে আমি জীবনে প্রথম দেখলাম নির্ভীক একজন জান্নাতি মেহমানকে, তাঁর মহান রবের সাথে মিলিত হওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি নিতে। আব্বুর কাছে সুযোগ ছিল রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া নিয়ে কালক্ষেপণ করার। মৃত্যুর সময় আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত তা আমরা সবাই জানি। আজ দেখলাম অন্তরে সেই বিশ্বাসকে ধারণ করে কিভাবে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয়।

সাক্ষাতের শেষপর্যায়ে আব্বু জিজ্ঞেস করলেন সাঁথিয়ায় দাফন করতে কে কে যাবে? আমি বললাম আমি আর মোমেন যাবো। তিনি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সাবধানে যেতে বললেন আর মিঠু ভাইকে সাথে রাখতে বললেন। আম্মাকে রাতে সাঁথিয়া যেতে মানা করলেন। মোমেনকে জানাযার নামাজের ইমামতি করতে বললেন। মোমেন প্যান্ট শার্ট পরে ছিল, তিনি বললেন পাঞ্জাবি পরে জানাজা পড়াতে।

তিনটি বই পড়তে বললেন মাওলানা নিজামী : সাক্ষাতের শেষ দিকে মাওলানা নিজামী বলেন, আমার অসিয়তগুলো তোমরা আমার লেখা বইগুলোতে পাবে। বিশেষ করে জেলে বসে লেখা দু’টি বই- কুরআন হাদিসের আলোকে রাসূল মুহাম্মদ (সা) ও আদাবে জিন্দেগি এবং আগে লেখা বই ‘কুরআনের আলোকে মুমিনের জীবন’ প্রভৃতি বইগুলো পড়তে বলেন।

বাবার কাছ থেকে শেষ বিদায় : সবশেষে আমার সবচেয়ে বড়বোন মহসিনা আপাকে বললেন, “আম্মু আমি তোমাকে নিয়ে বেশি চিন্তিত, তুমি আমার মা, আমার সবচেয়ে বড় সন্তান, তোমার মুখেই প্রথম আমি আব্বু ডাক শুনেছি। তুমি শান্ত থেক।” আম্মুকে বললেন, “আমার সোনার টুকরা ৬ ছেলেমেয়েকে রেখে গেলাম তুমি এদের মাঝেই আমাকে খুঁজে পাবে। তোমরা যাও, আমি তোমাদের যাওয়া দেখি।”

আমরা একে একে হাত মিলিয়ে আমাদের জান্নাতি বাবার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। ছোট্ট বিড়ালটিও আমাদের পিছু নিলো। শেষ সময়ের দেখা আব্বুর উজ্জ্বল চেহারাটি সারাটি পথ চোখে ভাসছিল। কোথায় যেন শুনেছিলাম some birds are not meant to be caged, their feathers are just too bright.

জীবিত বাবাকে রেখে চললাম দাফনের প্রস্তুতি নিতে : জেল থেকে বের হয়ে রওয়ানা হলাম সাঁথিয়ার উদ্দেশে, জীবিত বাবাকে রেখে চললাম তার দাফনের প্রস্তুতি নিতে। রাসূল (সা)-এর সেই হাদিসটি তখন বার বার মনে পড়ছিল, যখন তোমরা কোন বিপদ মুসিবতে পড়বে তখন স্মরণ কর সবচেয়ে বড় মুসিবতের কথা। সেটা হবে আমাকে হারানোর মুসিবত। (ইবনে মাজাহ)। এই উম্মত রাসূল (সা)কে হারানোর কষ্ট সহ্য করেছে। এই উম্মত সবই সহ্য করতে পারবে। রাব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাও ওয়া সাব্বিত আকদামানা ওয়ানসুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরিন।

আমি প্রস্তুত : পরিবারের সাথে শেষ সাক্ষাতের সময় সবাইকে নিয়ে মোনাজাত শেষে মাওলানা নিজামী তার ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেনকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি ফাঁসির মঞ্চে লুঙ্গি পরে না পাঞ্জাবি-পাজামা পরে যাবেন? মোমেন বললেন, পাঞ্জাবি-পাজামা পরে যাবেন। আল্লাহর প্রিয় বান্দা, মর্দে মুজাহিদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করার প্রেরণায় কতটা ব্যাকুল ছিলেন, তা এখান থেকেই স্পষ্ট বুঝা যায়। পরিবারের সদস্যদের বিদায় দিয়ে মহান রবের পানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকেন মাওলানা নিজামী। জল্লাদরা যখন তার কক্ষের সামনে যায়, তিনি বললেন, ‘আমি প্রস্তুত’।

অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় প্রিয় নেতার বিদায় : রায় কার্যকরের নির্বাহী আদেশ ১০ মে ২০১৬ সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১১ মে ২০১৬ রাত ১২টা ১০ মিনিটে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে হত্যা করার মধ্য দিয়ে তিনি মহান রবের পানে চলে যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

জেলা/মহানগরী গঠন ও কাজ

জেলা/মহানগরী গঠন ও কাজ

 

জেলা/মহানগরী গঠন ও কাজ

১। আমীরে জামায়াত বিশেষ প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সহিত পরামর্শ করিয়া সাংগঠনিক জেলা/মহানগরীর সীমা নির্ধারণ করিতে পারিবেন।
২। জেলা/মহানগরী সদস্য সম্মেলন, জেলা/মহানগরী আমীর, জেলা/ মহানগরী মজলিসে শূরা এবং জেলা/মহানগরী কর্মপরিষদ সমন্বয়ে জেলা/মহানগরী জামায়াত গঠিত হইবে।
৩। জেলা/মহানগরী জামায়াত কেন্দ্রীয় জামায়াতের অধীনে হইবে এবং উহার সহিত সরাসরি সম্পর্ক রক্ষা করিয়া চলিবে।